ফ্রিডম বাংলা নিউজ

বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪ |

EN

রায়পুরের ফুটপাত ভাড়া দেয়ার অভিযোগ

জিহাদ হোসেন রাহাত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | আপডেট: বৃহস্পতিবার, জুন ৬, ২০২৪

রায়পুরের ফুটপাত ভাড়া দেয়ার অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফুটপাত দখল করে বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ফুটপাত দিন ও মাসিক হিসেবে ভাড়া দিয়ে মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চাঁদাবাজ চক্র। রায়পুর-ফরিদগঞ্জ ও রায়পুর-হায়দরগঞ্জ সড়কের ফুটপাত ভাড়া দিয়েই চক্রটি নিচ্ছে মাস প্রতি এক লাখ টাকা। তাছাড়া গোডাউন রোড, মোরগ হাটা, মুড়ি হাটা, আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ফুটপাত ও আশপাশের সড়কের পাশে থাকা ফুটপাত বাণিজ্য করে আরো দেড় লাখ টাকা আদায় করছে এই চক্র। 

চুলকানির মলম, ডিম,ফল,চা,চটপটি,ফুসকা, আঁচার ও বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রেতারা জড়িত ফুটপাত দখলকান্ডের সাথে। ফুটপাতে ব্যবসা করা এসব দোকান থেকে দিনপ্রতি ১শ টাকা হারে আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। মুচিসহ ফুটপাতের যেসব ব্যবসায়ীরা দিনপ্রতি চাঁদা না দিয়ে মাসিক হারে চাঁদা দেন তাদের জন্য রয়েছে ৫শ টাকা ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা। এতে করে তারা প্রতি মাসে চাঁদা দেন ২ হাজার ৫শ টাকা। তবে কে বা কাহারা চাঁদা তুলে নিচ্ছেন সেসব বলতে নারাজ ফুটপাতের ব্যবসায়ী মহল। প্রায় ২ শতাধিক দোকান ফুটপাত দখল করে জীবিকা নির্বাহ করছে। পাশাপাশি যোগাচ্ছে বড় আকারের চাঁদার টাকা। ফুটপাত দখলের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে যানজট।

গত রোববার (২রা জুন) নিজের তিন বছর বয়সী বাচ্চা সাথে নিয়ে হাঁটার সময় ব্যাটারী চালিত একটি অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হন মরিয়ম (২৩) নামে এক নারী। ঘটনাটি দূর থেকে দেখে দৌড়ে এসে অটো চালককে থাপ্পড় দেন আরেক পথচারী। ফুটপাতের অবৈধ দখল দুর্ঘটনাটির মুল কারণ। এমন দুর্ঘটনা এখানকার নিত্য দিনের চিত্রে পরিনত হয়েছে। 

অবৈধ দখল বাণিজ্যের চাঁদা আদায়ের সাথে জড়িত হিসেবে উঠে এসেছে নাছির নামে এক যুবকের নাম। সে সিএনজি ও অটোরিকশার জিপির টাকা তোলে। তবে চাঁদা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে সে।

এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা চেষ্টা করছি। উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। চাঁদা আদায় করা হয় এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ইজারার আওতায় থাকায় খাঁজনা তোলা হয়। বাড়তি টাকা কেউ নিয়েছে এমন অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবো।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন ফারুক মজুমদার বলেন, সড়কের উভয় পাশে গড়ে ওঠা সবগুলো দোকানই অবৈধ। এগুলো আমাদের একা পক্ষে উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। থানা পুলিশ বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ করেছে। তাদের স্থায়ী ভাবে উচ্ছেদ না করায় সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলে ফের দখল হয়ে যায়। আমি নিজেও অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোন সু-ফল হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরান খান বলেন, ডিসি স্যারের সাথে কথা বলে সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে স্থায়ী ভাবে সব উচ্ছেদ করা হবে।