ফ্রিডম বাংলা নিউজ

মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪ |

EN

তথ্যের সহজপ্রাপ্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

জিহাদ হোসেন রাহাত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | আপডেট: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৩

তথ্যের সহজপ্রাপ্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
তথ্যের সঠিক প্রবাহ মানব ভোগান্তি কমিয়ে জীবনকে গতিময় ও আনন্দদায়ক করে তোলে। সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে মানুষকে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সহয়তা করে। জীবনে চলার পথে নির্ভুল তথ্য খুলে দেয় মানুষের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দুয়ার। এক্ষেত্রে উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য চাই তথ্যের সহজপ্রাপ্যতা।

তবে সহজে পাওয়া তথ্যের যাতে অপব্যবহার না হয় সেজন্য প্রয়োজন তথ্য সুরক্ষা বা তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয় তথ্যকে। যার কাছে যত বেশি তথ্য রয়েছে সে তত বেশি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ- এমনটিই দেখা যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায়। তবে এই তথ্যের গঠন-পদ্ধতি ভেদে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারভেদ। এর মধ্যে কিছু তথ্য রয়েছে খুবই উন্মুক্ত অর্থাৎ সবার জানার অধিকারপূর্ণ। আবার কিছু তথ্য রয়েছে গোপনীয়। গোপনীয় তথ্যের মধ্যে উল্লেখ করা যায় এমন কয়েকটি হলো, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইত্যাদি। 

আবার গোপনীয়তার ভিত্তিতে তথ্যে প্রবেশাধিকারেরও রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যায়। গোপনীয় তথ্যে নিজের অধিকার খাটানোর জন্য প্রয়োজন অনুমতি বা আইন স্বীকৃত উপায়। এর বাইরে গিয়ে প্রবেশ করলে এটি অনধিকার চর্চা তথা অপরাধ হিসেব গন্য হবে। তাই বলা যায়, একটি প্রতিষ্ঠান তথা সংগঠনের তথ্যে প্রবেশাধিকার বিষয়ে আমাদের স্বচ্ছ ধারণা থাকা খুবই জরুরি একটি বিষয়।ডিজিটালাইজেশানের এই সময়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে এসে সরকারি সেবায় কিছুটা অনলাইন মাধ্যম যুক্ত হলেও এখনো তা প্রয়োজন তুলনায় যথেষ্ট নয়। সরকারি বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে কাজের ধরণ উন্নয়ন এবং সহজীকরণের মাধ্যমে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই মুলত ই-গভর্নেন্স এর প্রধান উদ্দেশ্য। 

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষতার অভাবে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি উন্মুক্ত হয়ে অপরাধীদের হাতে চলে যাওয়ার চাপা খবরও হয়েছে আমাদের দৃষ্টিগোচর। গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অফলাইন সেবা থেকে ডিজিটাল করা সেবার মান বেশি হলেও এর পরিপূর্ণ সুফল আমরা এখনো পাচ্ছি না। ডিজিটাল সেবার তথ্য সুরক্ষাসহ এর বিভিন্ন ত্রুটিও খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।বর্তমান সময়ে ডিজিটালকৃত সরকারি তথ্য-উপাও এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সম্পদ সুরক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী- প্রতিরোধ, আইন প্রয়োগ ও তথ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। উদ্ভুত এ পরিস্থিতিতে ডিজিটালকৃত সরকারি তথ্য সম্পদে অননুমোদিত উপায়ে অনুপ্রবেশ রোধ করতে সঠিক নিরাপত্তা নীতি ও বাস্তবায়ন কৌশল প্রণয়ন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সকল নাগরিকের জন্য তথ্য সুবিধার উন্মুক্ত মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। এর মধ্যে, হাতে বহনযোগ্য ডিভাইস,মোবাইল-ফোন, ট্যাবলেট পিসি, বেতার প্রযুক্তি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এগুলো মুলত সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলে তথ্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে। আবার ইন্টারনেটে বিদ্যমান তথ্য ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি সংগঠনগুলোকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সঞ্চালিত ও সঞ্চিত তথ্যের ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে তথ্য অধিকার আইন রয়েছে। যে কেউ চাইলে সরকারি গোপনীয় কোনো তথ্য পাওয়ার জন্য তথ্য আইনের বিধি অনুযায়ী একটি তথ্য অধিকার ছকপত্রে আবেদন জানাতে পারে। ফলে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি আইন সিদ্ধ হয়। শুধু সরকারি নয় বেসরকারী তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় এ রীতি অনুসরণ করতে হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাকিসব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মতো তথ্যও এমন একটি সম্পদ যা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপরিহার্য, যা কিনা যথাযথ উপায়ে সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত থাকে। সম্প্রসারিত অর্থে- তথ্য হলো এমন এক ধরনের ভিত্তি যার উপর নির্ভর করে একটি সংস্থা নিজের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। উল্লেখ করা আবশ্যক যে, নির্ভরযোগ্য তথ্য উত্তম পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এনে দেয় প্রতিষ্ঠানের সাফল্য। তাই বলা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা কিংবা ব্যার্থতা এর সবকিছুই নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রবাহ এবং প্রবাহিত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উপর। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক কাজের গতি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রতিষ্ঠানের সকল তথ্য সংরক্ষণ করার পাশাপাশি সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। যা কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক কিংবা ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদন ব্যতীত এই তথ্যে প্রবেশ,পরিবর্তন, বিনষ্ট করা হলে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,তথ্য আইন বা উপযুক্ত আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। 

তথ্যের যাচ্ছেতাই ব্যবহার তথা অপব্যবহার রোধ কল্পে তথ্যের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি ঠিক তেমনই মানুষের জীবনকে গতিময় ও সুন্দর করার জন্যে তথ্যের সহজ প্রাপ্তিও দরকার। এক্ষেত্রে প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সুরক্ষিত উপায়ে তথ্যের সহজপ্রাপ্তি নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কাজ করতে হবে। এর ফলে সুরক্ষিত তথ্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে মানব জীবন। আবার সুরক্ষিত অবস্থায় তথ্যের সহজপ্রাপ্তি খুলে দিবে মানব জীবনে নতুন সব সম্ভাবনার দুয়ার।