ফ্রিডম বাংলা নিউজ

মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০২৪ |

EN

লক্ষ্মীপুরে ফেসবুক ব্যবহার করে বাড়ছে আম বিক্রি

জিহাদ হোসেন রাহাত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | আপডেট: রবিবার, জুন ৩০, ২০২৪

লক্ষ্মীপুরে ফেসবুক ব্যবহার করে বাড়ছে আম বিক্রি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আমসহ মৌসুমি ফল বিক্রিতে ঝোঁক বেড়েছে লক্ষ্মীপুরের তরুণ ও যুবকদের মাঝে। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া মেলায় লাভবান হচ্ছেন তাঁরা। অনেকে শখের বশে আম বিক্রি শুরু করে এখন হয়ে উঠেছেন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী।জেলার রামগতি, কমলনগর, সদর, রামগঞ্জ ও রায়পুরে রয়েছেন বায়েজিদ বোস্তামি সোহাগ, রাশেদুল ইসলাম, মোঃ হাবিব, মোঃ রাজু,নাচির উদ্দিন, এইচ এম মাহাবুব,পারভেজ,আবদুর রহমান,ইয়াসিন আরাফাত, মোরশেদ কামাল, তানভির সায়েমসহ এমন অন্তত দুই শতাধিক ব্যবসায়ী।

যারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উৎপাদন বেশি হয় এমন সব জেলা থেকে করেন আম সংগ্রহ। ফজলি, ল্যাংড়া, খিরসাপাত, গোলাপভোগ, অরুনা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাঁচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপুরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা, হাড়িভাঙ্গা, ছাতাপরা, গুঠলি, লখনা, আদাইরা, কলাবতী আম রূপালি ইত্যাদি জাতের আম কিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে বিক্রি করেন তরুণ ও যুবক শ্রেণির এসব উদ্যোক্তারা। 

খোদ জেলার রায়পুরেই রয়েছেন এমন অন্তত ২০ জন উদ্যোক্তা। নাজাত ফুডস কর্ণার নামে একটি ফেসবুক পেইজ খুলে চলতি মৌসুমে আমের ব্যবসা পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের এক যুবক। তিনি আমের পাশাপাশি মধু ও মৌসুম ভিত্তিক ফলের ব্যবসা করেন। কেরোয়া ইউপির বাসিন্দা মুহাম্মদ ইউনুস নামে আরেক যুবকও রয়েছেন ফেসবুক ভিত্তিক মৌসুমি ফলের ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। মধু মাস এলেই তিনি লিচু থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকারের ফল বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলছে ব্যবসা। প্রথম বার আমার মুনাফা হয়েছে ২ লাখ টাকা, গতবছরে (২০২৩) ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুনাফা করেছি। আশা করছি এ বছর ৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এবার সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় আমের উৎপাদন গতবারের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এজন্য চাহিদার তুলনায় আমের যোগান কম থাকায় আমের মূল্য অনেক বেশি। তিনি আরো বলেন, অনলাইনে আমের বিজনেসের চাহিদা বেড়েছে। গত ২ বছরে অনলাইনে আমের ব্যবসায়ী বেড়েছে প্রায় ১০ গুন। পাশাপাশি অনলাইনে আমে ক্রেতাও বেড়েছে কয়েকগুনেরও বেশি। অবশ্য ব্যবসায়ী বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজনেসে বিরুপ প্রভাব পড়েনি- বলেও মন্তব্য করেন এই উদ্যোক্তা। 

ফেসবুকে নিজ আইডি ও পেইজ খুলে আম বিক্রি করা কয়েকজনের সাথে কথা বলা হলে তারা বলেন, অনেক সময় আমাদের জন্য গাছিরা কুরিয়ার সার্ভিসে আম বুকিং দেয়ার পর আম চুরি হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো যথাসময়ে আম পৌঁছায় না আমাদের কাছে। বাধ্য হয়ে আমরা স্ব শরীরে গিয়ে আম ক্রয় করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসি। ক্রেতার আস্থা বাড়াতে আমাদের এই উদ্যোগ। তাছাড়া ক্রেতারা অর্ডার করে প্রায় সময় অর্ডার বাতিল করার বিষয়টিও রয়েছে। এতে যেমন সময় অপচয় হয় তেমনি কষ্টও বেড়ে যায় আমাদের। 

জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় বলছে, উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা কাজ করছি। অনলাইনে ব্যবসার বিষয়ে প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে রয়েছে ঋণ গ্রহণের সুযোগ।