ফ্রিডম বাংলা নিউজ

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২৪ |

EN

‘নৌকাওয়ালারা পালানোর জায়গা পাবে না’ বলা সেই আ.লীগ নেতাকে তলব

জেলা প্রতিনিধি | আপডেট: শুক্রবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২৩

‘নৌকাওয়ালারা পালানোর জায়গা পাবে না’ বলা সেই আ.লীগ নেতাকে তলব

আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-১ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মতবিনিময়সভায় ‘নৌকাওয়ালারা পালানোর জন্য জায়গা পাবে না’ বলা আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। 

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা সুলতানা নাসরীন এ নোটিশ দেন। 

নোটিশে এই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। নোটিশ পাওয়ার দুদিনের মধ্যে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাকে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে মাধবদী পৌরসভা মিলনায়তনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের মতবিনিময়সভা হয়। সেখানে সদর আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরুর (বীরপ্রতীক) লোকজনকে উদ্দেশ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা যখন জানবেন মাধবদীর মেয়র মোশারফ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ভাইয়ের জন্য নামছেন, তখন কেউ বাঁধা দিয়ে রাখতে পারবেন না। কাল থেকে নৌকাওয়ালারা পলাইবার জন্য জায়গা পাবে না।’ এই বক্তব্য শুনে উপস্থিত লোকজন হাসাহাসি শুরু করলে তিনি নিজের বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, নৌকা বলি না আমরা হীরুর নৌকা বলি— হীরু... হীরু...। হীরুর লোকেরা পালাইবার জায়গা ইনশাআল্লাহ পাবে না। ৭ তারিখে যে জাগরণ সৃষ্টি হবে এই নরসিংদীতে এই জাগরণের পরিণতিতে কামরুল ভাই (স্বতন্ত্র প্রার্থী) বিপুল ভোটে জয়ী হবে।

মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলামের এমন হুমকিমূলক বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে শুরু হয় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা। এর ভিডিওচিত্র জাতীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যার পরিপ্রেক্ষিতে মালিক মোহাম্মদ রাজিব নামে এক ব্যক্তি রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলামকে শোকজ করা হলো।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর ‘কোনো স্বতন্ত্র-মতন্ত্র আমরা চিনি না, মাইরের ওপর কোনো ওষুধ নাই’ বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের কারণে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. বদিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এমন হুমকি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে। নির্বাচনি আইন লঙ্ঘনের এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।