ফ্রিডম বাংলা নিউজ

বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪ |

EN

শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমজমাট ঈদ বাজার

মাদারীপুর প্রতিনিধি | আপডেট: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৩

শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমজমাট ঈদ বাজার
দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মাদারীপুরে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। উপজেলার মার্কেট গুলোতে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

এদিকে বঙ্গবাজার ও নিউমার্কেটে আগুনের প্রভাবও মাদারীপুর শিবচরের কাপড়ের বাজার গুলোতে পড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ বঙ্গবাজার ও নিউমার্কেটে আগুনের অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি দাম রাখছে ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে উপজেলার পৌরবাজারসহ গ্রাম পর্যায়ের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, 'গ্রাামের বাজারের পোশাকের দোকানে ভিড় কিছুটা বেশি রয়েছে। এ ছাড়া পৌর মার্কেটগুলোতে ভিড় সহনীয় রয়েছে। ক্রেতারা দোকান থেকে দোকানে খুব একটা ঘুরছেন না। তীব্র্র গরমকে উপেক্ষা করে বাজার এখন সরব।

এ ছাড়াও, জমে উঠেছে উপজেলার ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী সুপার মার্কেট, তালুকদার মার্কেট, খলিফাপট্টি, পাঁচ্চর সোনার তরী, সোনার বাংলা প্লাজার, শেখপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ছোট-বড় বাজারগুলো।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ বাজারে এসেছে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় সব পোশাক। তবে এবার ভারতীয় 'টিভি সিরিয়ালের' নামে পোশাকের ছড়াছড়ি খুব একটা নেই। তবে এবার বাজারে দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আধুনিক ডিজাইনের সব ধরনের পোশাক রয়েছে।

এছাড়া পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি, ফতোয়া, থ্রি-পিস, টুপিস ও শিশুদের জন্য সব ধরনের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে শহরের দোকানগুলোতে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মার্কেটে চাকরিজীবীদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে ক্রেতাদের বেশিরভাগই নারী।

ক্রেতাদের অভিযোগ, কেনাকাটা করতে এসে প্রায় সব ধরণের কাপড়ে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। সব ধরনের কাপড়ে দাম বেড়েছে ৫০০ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত।

উপজেলার খলিফাপট্টি বহেরাতলা থেকে ক্রেতা লিপি বেগম তার মেয়ে তাবাচ্ছুমের জন্য নিয়েছেন থ্রি-পিস এবং তার জন্য নিয়েছেন জামদানি শাড়ি। তিনি বলেন, পরিবারের সবার জন্য পোশাক নিতে আসছি। এ ছাড়া, পোশাকের দাম একটু বেশি। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে হলে কিনতে হবে, তাই কিনেছি।

শিবচরের পাঁচ্চর সোনারবাংলা প্লাজায় কেনাকাটা করতে আসা জান্নাতুল আক্তার, হামিদুর রহমান, তাবাচ্ছুম বলেন, 'প্রচন্ড গরম। বেশি ঘোরাঘুরি করা যাচ্ছে না। দুই-এক দোকান দেখেই কিনে ফেলেছি। পোশাকের দাম গত বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি।'

৭১ চত্বর সংলগ্ন সড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকানে কসমেটিকস হাউজে আসা নওরিন আক্তার আয়শা, মিম, কলেজ শিক্ষার্থী সুমাইয়া, রাবেয়া আক্তার, জিম জানান, তাদের কেনাকাটা শেষ। শুধুমাত্র গলার নেকলেস, চুড়ি ও নুপুর কিনতে কসমেটিকস দোকানে এসেছেন। সবকিছুর দাম চড়া হলেও ঈদ উদযাপন করতে সবকিছুই কিনতে হয়েছে।

এদিকে ৭১ সড়কের পাঞ্জাবি দোকানগুলোতে ভিড় দেখা যায়। সেখানে বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি পছন্দ করছেন ক্রেতারা। কেউ নামী-দামী ব্র্যান্ড, আবার কেউ পাঞ্জাবি দোকান থেকে পছন্দের পাঞ্জাবি কিনতে দেখা যায়। ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার পাঞ্জাবির দিকেই অনেকের মনোযোগ। তবে ২ হাজারের নিচের ক্রেতাই বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই দর্জির দোকানগুলোতেও। বেশির ভাগ দর্জির দোকানে নতুন করে কোনো অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না। আগে নেওয়া কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করছে তারা।