ফ্রিডম বাংলা নিউজ

বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪ |

EN

মাদারীপুরের বধ্য ভুমিতে 'সুফিয়া কিংবা একজন প্রীতিলতা' নাটক মঞ্চায়িত

শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি | আপডেট: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

মাদারীপুরের বধ্য ভুমিতে 'সুফিয়া কিংবা একজন প্রীতিলতা' নাটক মঞ্চায়িত
মাদারীপুরে এ আর হাওলাদার জুট মিলের অভ্যন্তরে বৃহৎ বধ্যভূমিতে রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় 'সুফিয়া কিংবা একজন প্রীতিলতা' নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী'র ভাবনা ও  পরিকল্পনায় নাটকটি সমন্বয় করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল হাসান মিলন। নাটকটি প্রযোজনা করেন আলি আহমেদ মুকুল ও গবেষণা নির্বাহী ছিলেন আবু ছালেহ মো. আব্দুল্লাহ। শাহীন রহমানের রচনা ও নির্দেশনায় নাটকে অভিনয় করেন মাদারীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী ও শিবচর থিয়েটারের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীসহ ৫০ জন কলাকুশলী।

সারাদেশের গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার অবলম্বনে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনী মাদারীপুর এ আর হাওলাদার জুট মিলে ঘাঁটি গেড়েছিল। জুট মিলের অভ্যন্তরে ডি-টাইপ বিল্ডিং এ ছিল তাদের টর্চার সেল। এখানেই মাদারীপুর ও শরীয়তপুর অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিকামী মানুষকে ধরে এনে অমানবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে টর্চার সেলের ২০০/৩০০ মিটার পশ্চিমে খোলা মাঠে মাটি চাপা দিয়ে রাখতো।
পাশাপাশি রশিতে বেঁধে অসংখ্য মুক্তিকামী জনতাকে টর্চার সেলের উত্তর পাশে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে জুট মিলের জাহাজ নোঙ্গর করা জেটিতে দাঁড় করে ব্রাস ফায়ারের পর লাশগুলো নদীতে ভাসিয়ে দিতো। এছাড়া অসংখ্য সুন্দরী মেয়ে ও গৃহবধুদের ধরে এনে টর্চার সেলের মধ্যে রেখে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হতো। অনেকেই নির্যাতনের সময় টর্চার সেলের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছে। তাদেরও বধ্যভ‚ মিতে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হতো। এ থেকে বাদ পড়েনি সুফিয়া পরিবার। সুফিয়া ও তার পরিবারকে ঘিরেই এই নাটকের উপজীব্য।

নাটকটি সরাসরি উপভোগ করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) চাইলাউ মারমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিমুল কুমার সাহা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সরকারী বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন খলিল বাহিনীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান হাওলাদারসহ সহস্রাধিক দর্শক।