ফ্রিডম বাংলা নিউজ

মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০২৪ |

EN

কনডেম সেল থেকে পালানো চার আসামি দুই দিনের রিমান্ডে

বগুড়া প্রতিনিধি | আপডেট: বুধবার, জুলাই ৩, ২০২৪

কনডেম সেল থেকে পালানো চার আসামি দুই দিনের রিমান্ডে

রিমান্ডে নেওয়া চার আসামি। ছবি:সংগৃহীত ।

বগুড়া জেলা কারাগারের কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিন হাসান এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুজন মিয়া সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  

রিমান্ডে নেওয়া চার আসামি হলেন- কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গার নজরুল ইসলাম মজনু, নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার ফজরকান্দির আমির হোসেন, বগুড়ার কাহালু পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়র আবদুল মান্নানের ছেলে মো.জাকারিয়া এবং বগুড়া সদরের কুটুরবাড়ি পশ্চিমপাড়ার ফরিদ শেখ।

তদন্ত কর্মকর্তা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুজন মিয়া জানান, কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য পেতে চার আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জানা গেছে, গত ২৫ জুন রাত ৩টা ৫৫ মিনেটে বগুড়া জেলা কারাগারের জাফলং কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে বিছানার চাদর রশি হিসেবে ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি পালিয়ে যায়। তারা করতোয়া নদীর সেতু পার হয়ে শহরের চেলোপাড়ায় চাষী বাজারে সমবেত হয়। সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা অপরাধী সন্দেহে চারজনকে আটক করেন। 

খবর পেয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল সদর থানায় মামলা করেন। এরা প্রায় এক মাসের পরিকল্পনায় বাথরুমে থাকা বালতির লোহার হাতল দিয়ে কনডেম সেলের চুন-সুরকির ছাদ ফুটো করতে সক্ষম হয়। এরপর তারা বিছানার চাদর ও অন্য কাপড় দিয়ে রশি বানিয়ে সেটা দিয়ে পালিয়ে যায়।

বগুড়া জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, দায়িত্বে অবহেলায় জেলার ফরিদুর রহমান রুবেলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে ডেপুটি জেলার মো. হোসেনুজ্জামান, সুবেদার ফরিদ উদ্দিন, প্রধান কারারক্ষী আবদুল মতিন, সহকারী প্রধান কারারক্ষী সাইদুর রহমান, প্রধান কারারক্ষী দুলাল উদ্দিন, কারারক্ষী রেজাউল করিম, কারারক্ষী আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত এবং প্রধান কারারক্ষী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। 

জেল সুপার আরও জানান, কারা অধিদপ্তরের তিন সদস্যের কমিটির তদন্ত শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ছয় সদস্যের কমিটির তদন্তের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দুটি কনডেম সেলে থাকা ফাঁসির ১০ কয়েদিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুটিনমাফিক কিছু কয়েদিকে রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ফাঁসির আসামিরা মাত্র ২-৩ দিনের চেষ্টায় কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে পালানোর চেষ্টা করেছিল।