ফ্রিডম বাংলা নিউজ

রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২ |

EN

১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশ হবে সর্বকালের নজীরবিহীন:রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৪, ২০২২

১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশ হবে সর্বকালের নজীরবিহীন:রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যতই নিপীড়ণ-নির্যাতন চালানো হোক, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপি’র গণসমাবেশ সর্বকালের নজীরবিহীন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সকল বাধা অতিক্রম করে এই গণসমাবেশে উপস্থিত হতে সংগ্রামী জনগণ আপোষহীন লক্ষ্যে স্থির।  

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আসামী করা, গ্রেফতার, হয়রানী, দিনে-রাতে  বাসায় পুলিশ হানা দিয়ে পরিবারের লোকজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে অশালীনভাবে। কর্তৃত্ববাদী সরকারের উত্থানের ফলে ১৪ বছর ধরে গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, সহনশীলতাকে অচেনা শব্দে পরিণত করা হয়েছে। অসম্মান করা হয়েছে মানুষের ভোটাধিকারকে।অবাধ, মুক্ত, স্বচ্ছ, ইনক্লুসিভ নির্বাচনকে আইসিইউ-তে পাঠানো হয়েছে। এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে বর্তমানে জনগণের বিপুল উত্থান দেখে অবৈধ সরকার দিশেহারা হয়ে প্রতিহিংসার বন্য আচরণ শুরু করেছে। বিরোধী দলের টুঁটি চেপে ধরার জন্য এরা রাষ্ট্রশক্তিতে নির্বিচারে ব্যবহার করছে।

তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ঢাকায় বিএনপি’র গণসমাবেশের দিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রস্তুত থাকবে। বিএনপি তো গণসমাবেশ করবে, আর গণসমাবেশে মানুষের উপস্থিতিটাই একটি রাজনৈতিক দলের বড় অর্জন। সুতরাং সমাবেশকে সফল করতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অপরিহার্য, সেটি রক্ষার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সর্বাত্মক উদ্যোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এখানে তো সংঘাতের কোন প্রশ্নই আসে না। হাছান মাহমুদের এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর মনের ইচ্ছার হুবহ প্রতিধ্বণি। গণসমাবেশকে নিয়ে মন্ত্রী তার দল ও সরকারের সর্বনাশা ইচ্ছারই পরিকীর্তন করছেন। তবে আওয়ামী সরকার তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হবে।

রিজভী বলেন, জনগণের বিশাল শক্তির কাছে চক্রান্তের কোন আস্ফালন টিকতে পারবে না। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বিভিন্ন বিভাগীয় সদরে বিএনপি’র গণসমাবেশে নানা ধরণের নারকীয় আক্রমণ সত্বেও জনগণের অপ্রতিরোধ্য গতিকে আটকাতে পারেনি। তারা বহু কষ্ট করে দুই/তিন আগেই সমাবেশস্থলে হাজির হয়েছে। আওয়ামী সরকার সন্ত্রাসবাদের অন্ধগলিতে নিজেদের রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে। কারণ এরা সুশাসন ও গণতন্ত্রকে সমাধিস্থ করেছে। তবে জনগণ বর্তমান আওয়ামী সরকারের পতনে উদ্দীপ্ত বদ্ধপরিকর।

ভোটারবিহীন সরকার বন্দুক ও গুলি করে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের হত্যার ধারাবাহিকতায় বাতাসে বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে দিলেও জনগণের রাজপথের উপস্থিতিকে থামাতে পারবে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রকামী বিএনপি’র নেতাকর্মীরা শান্তিকামী কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তারা অবিচল। রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করেও তাদের কন্ঠের উচ্চারণকে থামানো যাবে না। শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে দমাতে হত্যার যে নীতি অবলম্বন করেছেন তাতে তিনি সফলকাম হবেন না। তাঁর আমলে একের পর এক নিরপরাধ লোককে হত্যার কোন বিচার হয়নি। তাই আওয়ামী দুর্বৃত্তরা সহিংস কার্যাবলী চালাতে উৎসাহিত হয়েছেন। প্রতি দুই দিন, তিন দিন পরই বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা ও অতর্কিতে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করছে, পঙ্গু হয়েছে অনেক নেতাকর্মী, এর উপর চলছে দেশব্যাপী বেপরোয়া পুলিশী অভিযান, হামলা-মামলার হিড়িক। -এসবই রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তির ইশারাতেই হচ্ছে। কারণ এক সময় তিনি চট্টগ্রামে বলেছিলেন-একটির বদলে দশটি লাশ ফেলতে। 

দেশব্যাপী বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা-মামলার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন,'
পিরোজপুর জেলাধীন নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল সিকদার সহ মোট ৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কুমিল্লা বিভাগীয় গণ সমাবেশের জন্য টঙ্গীর একটি ফ্যাক্টরীতে ৫০০০ গেঞ্জি প্রস্তুত করে নিয়া যাওয়ার পথে টঙ্গীর মুরাদনগরে বিএনপি নেতা জামাল হোসেন সহ ৪/৫ জন বিএনপি কর্মী এবং গেঞ্জির পিকআপ ভ্যান আটক করে উত্তরা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঢাকা মহানগর উত্তর ভাটারা থানার ৪০ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা বিভাগীয় গণ সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে-বাড়িতে তল্লাশির নামে ব্যাপক তান্ডব চালাচ্ছে পুলিশ। এসময় নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা- এম এ রশিদ, ডেপুটি মেয়র আনোয়ার হোসেন, আশরাফ আলী ভুলু, আসলাম, রিপন, সিদ্দীক মেম্বার ও দীপক ভূইয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে। এই মামলায় আরো আসামী করা হয় ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকসহ ১০৯ জন বিএনপিনেতাকর্মীকে। 

এছাড়াও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি এ্যাড. আবু সেলিম চৌধুরী, রহিতপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সোলায়মান মোকসেদ, কলাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য শাহাবুদ্দিন, রহিতপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল হোসেন; কালিন্দি ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক মনির, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হাজী শামিম আহমেদ, তারানগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি শওকত ও ৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সাগর সহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে পুলিশ।দোহার থানা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুস সামাদ ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন; মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, দোহার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রমজান খান, নয়াবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লাভলু দেওয়ান, সাবেক এজিএস মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাবেক ছাত্রদল নেতা- শিশির মাহমুদ, কিবরিয়া; ও যুবদল নেতা- হারুন মেম্বার,আব্দুস কুদ্দুস মেম্বার,সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপ সহ এখনো গ্রেফতার অব্যাহত আছে।