ফ্রিডম বাংলা নিউজ

রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২ |

EN

সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে পূজার আয়োজন চলছে মহাসমারোহে

শারদীয় আকাশে দেবীর আগমনী বার্তা ভেসে বেড়াচ্ছে। চারিদিকে সাজসাজ রব। তেত্রিশ লক্ষ পূজা মন্ডপ সারা বাংলাদেশে।


বিশেষ প্রতিবেদক | আপডেট: সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে পূজার আয়োজন চলছে মহাসমারোহে
মন ছুটে যাচ্ছে সেই ছোট্টবেলার ছোট্ট শহরে। দ্বিতীয় কোলকাতা খ্যাত ঝালকাঠী।পুরোশহর আলোক সজ্জায় সজ্জিত থাকে পুজোর দিনগুলো। চমৎকার চমৎকার ভক্তিমুলক গান বাজতো। পুজো মানেই মেলা। পুজোর মেলা থেকে নকুল, বাতাসা ,কদমা, খুরমা, গজা ,কত্ত কিছু  কিনতাম ই।  এছাড়া মাটির পুতুল হাড়ি ঢাকনা বাঘ হাতি ঘোড়া কত কি! 

আব্বা বিকেলে নিয়ে বের হতেন। আমাদের এইটা সেইটা কিনে দিতেন। তারপর মন্দিরে মন্দিরে ঘুরাতেন। একবার কালী মন্দিরের সামনে আমি আর গালিভ আব্বা তার কলিক বা ছাত্রদের  সাথে একটু দূরে কথা বলছিলেন হঠাৎ কারেন্ট চলে যায় আমি মা কালীর লালজিহবা জ্বলতে দেখে গালিভ কে জড়িয়ে আব্বা বলে চিৎকার এর মধ্যেই হ্যাজাক জ্বলে উঠেছিল। আব্বা কোলে নিয়ে বাসায় চলে আসে ।

আমার মনে আছে আমি অনেক বড় হওয়া পর্যন্ত কালী বাড়ীর সামনে থেকে একা হাটতে ভয় পেতাম।



আর একবার আখ কিনতে গিয়েছিলাম। আব্বা ছাড়া সাথে ছিল সেজ খালু। আমাদের ডিপো খেয়াঘাট থেকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ  আমরা কিছু একটা দেখে দাড়িয়ে যাই।  অনেক্ষন পর মনে পড়ল  আব্বা কোথায়? অনেকক্ষন খোজাখুজি করে আব্বাকে পাচ্ছি না। আব্বা আমাদের খেলা দেখছি দেখে নামাজে গিয়েছেন এটুকু সময়ে আমরা কেঁদেকেটে  পৌর সভা খেয়াঘাট চলে গেছি সে এক দৃশ্য আব্বা আর খালু খুঁজছেন। এলাকার এক বড় ভাই কাছে ডেকে বললেন বসো কিছু খাও স্যার না আসলে বাসায় পৌছে দেব। আমরা বসলাম এর মধ্যেই রিক্সা করে আব্বা যাচ্ছেন ইউনুস ভাই স্যার বলে ডাকলেন আব্বা লাফ দিয়ে নেমে আমাদের জরিয়ে কেঁদে ফেললেন। খালু বলল দুলাভাই ওদের একটু বকা দেন। ওরা কেন এদিক এসেছে। আব্বা বললেন ওরা কত কষ্ট পেয়েছে আর তুমি বকতে বলছো আর কখনো এরকম করবেনা বলো! তারপর ভাসানের দিন  আরতি দির বাসায় যেতাম সবাইকে দাদাবাবু প্রনামী দিত।তারপর চুসী/ সেওই পিঠা বড়া পিঠা নাড়ু খেতাম। লক্ষী পুজোর পর বাড়িতে বাড়িতে দাওয়াত । সবাই মিলে নাড়ু মোয়া নিমকী লুচী সন্দেশ খেতাম।একবার বাসন্তীর বাড়ী বৃষ্টির জন্য যেতে পারিনি কিন্তু বাসু সেই জলকাদাঁ পেরিয়ে ঠিক ই  হরেক রকমনাড়ু মোয়া নকুল বাতাসা  লুচী সন্দেশ নিয়ে হাজির।সাথে এক প্রস্থ বকা। এই ভালবাসা মাখানো বকা শুনে আমি দূরে দাড়িয়ে হাসছি। আম্মা বাসু কে বলছে এখন তো রাত হয়ে গেছে তুমি এই বৃষ্টি কাদায় যাবে কেমনে দাড়াও পরে আমার ভাই ও খালাতো ভাই বিটু কে পাঠালো ওর সাথে এছাড়া পুজোতে সবাই মিলে বাসুদের ছাদে আড্ডা। কতরকম মাছ দিয়ে অষ্টমীর খাওয়া। এই সব সুখ স্মৃতি গুলো একদম ঝকঝকে।   কোনদিন কোন আড্ডায় কোন কথা নিয়ে চরম হাসাহাসি করেছি অবিকল বলতে পারব আমরা।  কেমন যেন দ্রুত সন্ধ্যা নামত আশ্বিনের সেই সন্ধ্যাগুলোতে। রাস্তায় নেমে আড্ডার রেশ মনে নিয়ে মিষ্টি হাসিতে একটু শীতের স্পর্শ লাগত। কিন্তু মনটা পড়ে থাকতো ওদের দোতালার ঐ বসার ঘরটায়।

জেসমিন বানু বন্যা
সহকারী অধ্যাপক
সাটুরিয়া সৈয়দ কালু শাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ